Home » পায়রা সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

পায়রা সেতু বদলে দেবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি

কর্তৃক CsCSJekovzvW

কারিগরি জটিলতা ও করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে পুরোদমে এগিয়ে চলছে পটুয়াখালীর লেবুখালীর পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের জুনে সেতুটি যান চলাচলের উপযোগী হবে বলে দাবি প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের।

কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের লেবুখালীতে পায়রা নদীর উপর এই সেতু নির্মাণ ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সে লক্ষ্যে ২০১১ সালে কুয়েত সরকারের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বহুল কাঙ্ক্ষিত এই পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পায়রা সমুদ্রবন্দর, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাগরকন্যা কুয়াকাটাসহ পুরো দক্ষিণ উপকূলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ বিনিয়োগে এক হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। এরইমধ্যে মূল সেতুর ৭৫ শতাংশ এবং পুরো প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লনজিয়াল ব্রিজ অ্যান্ড রোড কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর আদলে নির্মিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য এক হাজার ৪৭০ মিটার এবং প্রস্থ ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। সেতুটি কেবল দিয়ে দু’পাশে সংযুক্ত করা থাকবে। ফলে নদীর মাঝখানে একটি মাত্র পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া খরস্রোতা পায়রা নদীর তীর সংরক্ষণেও প্রকল্প থেকে কাজ চলমান রয়েছে। আটটি স্প্যান ও ২৬টি ভায়াডাক থাকবে মূল সেতুতে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজোয়ানা হিমেল বলেন, সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াত, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে। সহজ হবে সড়কে যোগাযোগ।

বাসচালক আব্দুল কুদ্দুস ও নাজিম উদ্দিন বলেন, যাত্রীসাধারণ ও চালকদের আর ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে না। থাকবে না ফেরিতে ওঠার ঝুঁকিও। সেতুটি হয়ে গেলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে।

পটুয়াখালীর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, এ সেতু চালু হলে দক্ষিণ জনপদের শুধু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নয়ন ঘটবে না, উন্নয়ন হবে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থারও। বাড়বে কর্মসংস্থান। চালু হবে বাস সার্ভিস। দক্ষিণের জনপদ হবে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক জোন।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, পায়রা সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। যদিও কারিগরি জটিলতা ও করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কিছুদিন কাজে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু তা কাটিয়ে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। এরই মধ্যে মূল সেতুর ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, আশা করি আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পায়রা সেতু।

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.